Logo
নোটিশ :
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয় ।

মানিকগঞ্জে কুটির শিল্পের সাথে জড়িত তিন হাজার পরিবারের মানবেতর জীবন যাপন

রিপোর্টার / ১০৯ বার
আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ,স্টাফ রিপোর্টার :০১ জুলাই-২০২১,বৃহস্পতিবার।
ভাল নেই মানিকগঞ্জের কুটির শিল্পের সাথে জড়িত প্রায় ৩ হাজার পরিবার। প্রয়োজনীয় উপকরনের মূল্যবৃদ্ধি, পুঁজির অভাব, আধুনিকতার ছোয়া, সুষ্ট বাজারজাত করনের অভাবে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পটি বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে এ পেশার সাথে জড়িত লোকজন পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

মানিকগঞ্জের ঘিওর, শিবালয়, দৌলতপুর, সাটুরিয়া, সিংগাইর, হরিরামপুর এ ৭টি উপজেলার কুটির শিল্পের সাথে জরিত লোক জন হাট বাজার থেকে বাঁশ, বেত ক্রয় করে বাড়িতে এনে নিজ হাতে ডালি, কুলা, টুপড়ি, চালোন, চাটাই, ডোল, হাতপাকা, পলো, বেতের, সৌখিন চেয়ার টেবিল, বুক সেলফ, টিফিণ বক্স, দাড়ি পাল্লা, শেড়, ফুটকারফ তৈরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। মহিলা পুরুষ মিলেমিশে এ সমস্ত পণ্য তৈরি করে বরংগাইল, তরা, ঘিওর, মানিকগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করে। তবে এ সমস্ত দ্রব্য সামগ্রী এখন হাটবাজারে বিক্রি কমে গেছে। বর্তমানে আধুনিকতার ছোয়া, লোহা, ষ্টিল এলুমিনিয়াম ও প্লাস্টিক দ্রব্য সামগ্রী ব্যবহার করায় এবং বাজারজাত করতে না পারায় অনেকেই তাদের বাপদাদাদের পৈতিক পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় জড়িত হচ্ছে।

ঘিওর উপজেলার করজনা গ্রামে এ পেশার সাথে জড়িত সুনিল সরকার, চিনু রানী, দুর্গা রানী, লক্ষন সরকার, সুকুমার সরকার, সুবল সরকা সহবহু লোকজন জানান,বর্তমানে ইটভাটায় ইট পেড়ানোর কাজে ব্যাপক ভাবে বাঁশের মোথা ব্যবহারের ফলে বৃক্ষ নিধন ও বাঁশ উজার হওয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বাশঁ ও বেতের মূল্য। ফলে এসব পেশায় নিয়োজিত শ্রমিকরা তাদের পুজি যোগার করতে পারছেনা। তারা মাত্র ৪শ’ টাকা মুজুরিতে প্রতিদিন ঢাকা এবং ঘোড়াশাল মহাজনদের কাছে তাদের তৈরি দ্রব্য সামগ্রী বিক্রি করতে হচ্ছে। কোন কোন সময় মহাজনদের কাজ থেকে তারা দাদন নিয়ে পৈতিক পেশা টিকিয়ে রেখেছে। তাদের উৎপাদিত দ্রব্য সামগ্রী আমেরিকা, বেলজিয়াম ও কানাডাতে রপ্তানি করছে মহাজনরা। তবে আগের মত হাট বাজারসহ বিভিন্ন মেলাতে এ সমস্ত দ্রব্যসামগ্রী বিক্রি হয় না।
মানিকগঞ্জ সদর, ঘিওর, সিংগাইর, শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর হাট বাজারে কুটির শিল্পের তৈরি দ্রব্য সামগ্রী প্রচুর বিক্রি হতো। কিন্তু এখন চাহিদা নেই বললেই চলে। এ পেশার সাথে জরিত অনেক পরিবার তাদের পরিবার-পরিজন, ছেলে, মেয়ে নিয়ে খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। উপজেলার বানিয়াজুরি ইউনিয়নের ঈষিপাড়া গ্রামের সুবল সরকার জানান, প্রয়োজনীয় পুঁজি ও উৎপাদিত পণ্যের মূল্য কম হওয়ায় এখন তাদের এ পেশা ভাল লাগেনা। আমাদের অনেকে পৈতিক পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। তবে আথর্ সামাজিক উন্নয়নে পাশাপাশি এ পেশা টিকিয়ে রাখতে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে, সুদমুক্ত ঋণ ও সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। তাহলে এ শিল্পটি টিকিয়ে রাখা ও শ্রমিকদের স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব বলে অভিঞ্জ মহলের ধারনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Theme Created By ThemesDealer.Com