Logo
শিরোনাম :
নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করুন– –দুর্জয় নাগরপুরে নির্বাচনী সংহিতায় নিহত ১ গুলিবিদ্ধসহ আহত ৪ জন সৈয়দপুরে বাঁশঝাড় থেকে ২ সন্তানের জননীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী-শ্বাশুড়ী আটক ঘিওরে ধলেশ্বরী ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্টের’ উদ্ধোধন আগামীতে বিএনপি’র মত নির্বাচনে না যাওয়ার চিন্তা ভাবনা করছে জাতীয় পার্টি- সৈয়দপুরে মজিবুল হক চুন্নু টাঙ্গাইলে পাঁচ হোটেল মালিককে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত মানিকগঞ্জে নানা আয়োজনে নবীন আইনজীবীদের বরন  টাঙ্গাইলে পোড়াবাড়ী ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানের মনোনয়নপত্র জমা ঘিওরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত  দৌলতপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস ও  মহান বিজয় উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি মুলক সভা অনুষ্ঠিত
নোটিশ :
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয় ।

আরিচায় জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে ‘রোহান পাঠাগার’

রিপোর্টার / ৬৪ বার
আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২১

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ,স্টাফ রিপোর্টার :২১ অক্টোবর-২০২১,বৃহস্পতিবার।
মানিকগঞ্জের আরিচায় সর্বস্তরের মানুষের জন্য জ্ঞানের বাতিঘর হয়ে এলাকায় আলো ছড়াচ্ছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক (রফিক মেম্বার)। বহু দুঃখ কষ্ট অতিক্রম করে নিজস্ব অর্থায়নে তিল-তিল করে রোহান পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেছেন বিগত কয়েক বছর ধরে। বহু কষ্টে সংগ্রহ করা বইগুলোর মধ্যে প্রায় ১২ হাজারের মতো দেশী -বিদেশীসহ বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৩৫ লাখ টাকা। তবে একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে এলাকায় তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

উপজেলার শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওর্য়াডের পর-পর তিনবারের নির্বাচিত সদস্য (মেম্বার) তিনি। বাবা উকিল উদ্দিন দর্জি ও মা আছিয়া বেগমের চার সন্তানের মধ্যে রফিকুল ইসলাম মেঝো। তিন ভাই এক বোন তারা । তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনিই বড়। তার বাড়ি আরিচা ঘাটে। রফিকের বাবা পেশায় ছিলেন দর্জি। কাপড় সেলাই করে উকিল উদ্দিন তিন ছেলে ও এক মেয়েকে লেখাপড়া করিয়েছেন। বাবার ছিল বই পড়ার নেশা। সেলাইয়ের ফাঁকে ফাঁকে নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে বিভিন্ন ধরণের বই কিনে পড়তেন। তখন থেকেই তাদের বাড়ীতে বিভিন্ন ধরনের বই সংরক্ষিত ছিল। এলাকার অনেকেই তাদের বাড়ী থেকে নানান ধরনের বই নিয়ে পড়তো । শত অভাবের মধ্যেও নব্বইয়ের দশকে তাদের বাড়ীতে প্রায় দুই হাজার বই ছিল। তখন থেকেই রফিকের মনে সাধ ছিল আরিচায় একটি পাঠাগার করার। যেখান থেকে বই নিয়ে সবাই পড়বে।

রফিকুল ইসলাম জানান, তাদের অভাবের সংসার ছিল। তার মা একবার তার বাবার সংগ্রহে থাকা আড়াইশ’ বই ফেরিওয়ালার কাছে কেজি দরে বিক্রি করে দেন। যার মধ্যে কিছু দুর্লভ বইও ছিল। যা আর কখনও উদ্ধার করা যায়নি। যার কারনে এখনও মনে কষ্ট আছে। তিনি আরো জানান, ২০০৩ সালে শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। পরপর তিনবার তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে তার মা মারা যান। মা মারা যাওয়ার পর থেকে তার বাবার একাকিত্ব জীবন শুরু হয়। বাবার পড়ার নেশা দেখে রফিক বাবাকে বিভিন্ন ধরনের বই কিনে দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে বাড়িতেই ৫ লাখ টাকা খরচ করে একটি লাইব্রেরি বানিয়ে দেন। আশেপাশের প্রতিবেশীরাও বই সংগ্রহ করে পড়তে থাকেন। মানুষের ভালবাসা ও বইয়ের প্রতি আগ্রহ দেখে তার চিন্তা হয় একটি পূর্ণাঙ্গ লাইব্রেরি করার। শখ বা ইচ্ছাটা তো আগে থেকেই ছিল। তাই ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ১৫ লাখ ঠাকা খরচ করে আরিচায় ঘরভাড়া নিয়ে ছেলের নামে প্রতিষ্ঠা করেন ‘রোহান পাঠাগার’। পরে ২০১৮ সালে তার বাবাও মারা যায়। এতে রফিক মেম্বার আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়েন এবং বইয়ের প্রতি তার আগ্রহ ও নেশা আরো বেড়ে যায়। সে তার বিগত জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে বই কিনতে থাকেন। তার সংগ্রহে বর্তমানে রয়েছে প্রায় ১২ হাজার বিভিন্ন ধরণের বই। যার মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। এছাড়াও বই সাজিয়ে রাখার জন্য থাই-গøাসের ২০ টি সেল্ফ এবং ২ টি টেবিল সেল্ফ আছে। পাঠকদের বসার জন্য আছে চেয়ার-টেবিল। নি¤œ-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান রফিক তার জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। আরিচা বাজারের মধ্যে এই পাঠাগারটির প্রতি মাসে ভাড়া গুণতে হয় ৩/৪ হাজার টাকা। তাছাড়াও রয়েছে বিদ্যুৎ বিল। যে সব খরচ রফিক মেম্বার নিজেই বহন করেন। পাঠাগারটি ইতিমধ্যে আরিচাসহ আশে-পাশের এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত খোলা থাকে এই পাঠাগার। তিনি নিজেই পাঠাগারটি খুলেন এবং পরিচ্ছন্ন রাখেন নিয়মিত।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, পাঠাগারটিতে কয়েকজন পাঠক মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করছেন। কেউ বই পড়ছেন আবার কেউ পত্রিকা পড়ছেন। মোঃ এনামুল নামে পাঠক বলেন, আমি নিয়মিত এখানে বই ও পত্রিকা পড়ার জন্য আসি। আগে আড্ডা দিয়ে সময় কাটাতাম এখন নিয়মিত পাঠাগারে এসে সময় কাটাই। সে দুর্গম চরাঞ্চল আলোকদিয়া দিয়া থেকে আসেন বলে জানালেন। ন্যাশনাল পলিটেকনিক্যাল কলেজ ছাত্র আবদুর রহমান সাবিন বলেন, আমি এ পাঠাগরে নিয়মিত আসি। পাঠাগারের পরিবেশ অত্যান্ত সুন্দর ও মনোরম। এ পাঠাগারে বিজ্ঞান ভিত্তিক বইয়ের সংখ্যা কম রয়েছে। আরো কিছু আধুনিক বিজ্ঞান বই থাকলে ভাল হতো। কলেজ ছাত্রী রুপা, প্রিতি ও অন্তরা জানালেন, আমরা পড়াশোনার ফাঁকে অবসর সময়ে বই পড়ার জন্য এখানে আসি। পাঠাগারে অসংখ্য ভাল লাগার মত বই রয়েছে। আমরা নিয়মিত বই পড়ে সময় কাটাই। পাঠাগার টি হয়ে আমাদের খুব উপকার হয়েছে। এক বয়োজ্যৈষ্ট মোতালেব হোসেন বললেন, আমি এখানে নিয়মিত আসি এবং পত্রিকাসহ নানান ধরনের বই পড়ি। পড়তে কোন টাকা পয়সা লাগেনা । আমার খুব উপকার হয়েছে। এই বয়সে সময় কাটানোর মতো একটি জায়গা পাওয়া গেছে। পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেছি। এটি ভাড়া করা ঘরে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে আর্থিক সংকটের কারণে পাঠকের চাহিদা মত বই কিনতে পারছি না। ফলে, পাঠক কমে যাওয়ার আশংকা করছি। বর্তমানে পাঠাগারে প্রায় ১২ হাজার বই রয়েছে। আমার ইচ্ছা ২৫ হাজার বই সংগ্রহের। তিনি বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সের পাঠকরা এখান থেকে বই সংগ্রহ করেন। পড়া শেষে আবার বই ফেরত দিয়ে যায়। কিছু বই আবার ফেরত আসে না। বই পড়ার জন্য কোন টাকা নেয়া হয় না। আমার স্বপ্নের পাঠাগারটি টিকিয়ে রাখার জন্য সরকার ও শিক্ষানুরাগী, হৃদয়বানদের সহযোগীতা কামনা করছি।
শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন বলেন, রোহান পাঠাগারটি অত্র এলাকায় বেশ প্রসংশা কুড়িয়েছে। আমি নিজেও সময় পেলেই পাঠাগারটিতে সময় কাটাই। আমার ইচ্ছা আছে পাঠাগারটিকে সহযোগীতা করার ।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা বলেন, পাঠাগারের উন্নয়নকল্পে আমার অবস্থান থেকে সাধ্যমত সহায়তা করব।

শিবালয় উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান খান জানু বলেন, রোহান পাঠাগার উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সাড়া জানিয়েছে। নিজের টাকায় রফিক মেম্বার মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছেন। তার এই লাইব্রেরি উন্নয়নে এবং সুনামের সঙ্গে টিকে থাকার জন্য শিবালয় উপজেলার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Theme Created By ThemesDealer.Com