Logo
নোটিশ :
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয় ।

স্বামী হারাইয়া প্রতিবন্ধী ছেলেডারে নিয়া বাইচা আছি

রামপ্রসাদ সরকার দীপু / ৯৮ বার
আপডেটের সময় : সোমবার, ৫ জুলাই, ২০২১

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ,স্টাফ রিপোর্টার ঃ০৫ জুলাই-২০২১,সোমবার।
আমাগো কথা বেশি কইরা লেখেন। এখানে আমাগো থাাকার ইচ্ছা করেনা। সহিতন বেগম (৬০) নামের এক বাসিন্দা দুঃখ করে বলেন, ৪ বছর আগে আমার স্বামীডা মারা গেছে। একমাত্র প্রতিবন্দী ছেলেডারে নিয়ে বহু কষ্ট কইরা বাইচা আছি। অন্যের বাড়িতে কাজ কইরা যা আয় হয় তাই দিয়ে তার সংসার চালাতে হয়। কি যে কষ্টে আছি তা আল্লাহ জানে। টয়লেট নেই, ভাঙ্গা ঘরে বৃষ্টি- বাতাসে থাকা কষ্টকর। তার পরে কামাই করনের মানুষ নাই। অপর ঘরে বসবাসকারী মোঃ করম আলী ও তার স্ত্রী দুজনেই রোগাক্রান্ত। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তারা বলেন, আমরা সব সময় ভয়ে থাকি । আশ্রয়নের পাশেই রাক্ষুসী ধলেশ্বরী নদী। কখন যেন ভেঙে যায় মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু। রোদ বৃষ্টিতে এখানে থাকা যে কতটা কষ্টকর তা কেউ বুঝে না। আশ্রয়নে বসবাসকারী মোঃ মনির হোসেন স্ত্রী, ৩ ছিলে, এক মেয়ে নিয়ে একটি ঘরে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করেন। বৃষ্টি এলে তাদের ঘরের ভাঙ্গা চাল দিয়ে পানি পড়ে। সারারাত জেগে থাকতে হয়। তিনি বলেন, সরকার যদি আমাগো ঘরগুলো মেরামত করে দিতেন তাহলে এখানরকার সকলেই একটু শান্তিতে থাকতে পারতো।
সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মানিকগঞ্জের ঘিওরে মাইলাগী আশ্রয়ন প্রকল্পটি রনাবেনের অভাবে সরকারের লাখ-লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পের অধিকাংশ ঘড়গুলো ধ্বংসের দারপ্রান্তে। দীর্ঘ ১৬ বছর যাবৎ সংস্কার না করার দরুন অধিকাংশ ঘড়গুলো ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে পরেছে। নদীর তীরবর্তী হওয়ায ঝড় বৃষ্টির সময় তাদের আতংক বেড়ে যায়।৩টি ব্যারাকে বর্তমানে ৩২ টি কে প্রায় ২শত লোক বসবাস করে। ৫টি পরিবারের জন্য রয়েছে ১টি টয়লেট। তাও অধিকাংশ টয়লেটগুলো ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে পরেছে। শুরুতে ২৮টি টিউবওয়েল দেওয়া হলেও বর্তমানে ৩টি টিউবওয়েল ব্যবহার করা যায়। অধিকাংশ ঘড়গুলো দিয়ে বৃষ্টির সময় পানি পরে। যত্রতত্র নোংরা পরিবেশ এখানে প্রায় ২ শতাধিক অসহায় দরিদ্র লোকজন বসবাস করে। এ ছাড়া ময়লা, আর্বজনায় ও দুর্গন্ধের কারনে বর্তমানে এগুলো ব্যবহারের একে বারেই অযোগ্য। কর্মদাক্ত স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় নলকুপ থাকায় পানি পান করাও নিরাপদ নয়। প্রসাবখানা নেই বললেই চলে। ৫টি ব্যারাকের লোকজন অন্যত্র চলে গেছে। অধিকাংশ পরিবারের লোকজন অভাব অনটন, দুঃখ কষ্ট আর দারিদ্রের কষাঘাতে বিপর্যস্থ হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
উপজেলা প্রকল্ব বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪-০৫ অর্থ বছরে ঘিওর উপজেলা পুরাতন ধলেশ্বরী নদীর পাশে মাইলাগী গ্রামে ১২৭ শতাংশ জমির উপরে সুন্দর মনোরম পরিবেশে আশ্রয়ন প্রকল্পটি নির্মান করা হয়। বিভিন্ন এলাকার ছিন্নমূল, হতদরিদ্র, ভূমিহীন লোকজনের জন্য ৮টি ব্যারাক নির্মান করা হয়। ইতোমধ্যে ৫টি ব্যারাক ধলেশ্বরী নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। বিশুদ্ধ পানি, টয়লেট, প্রসাবখানাসহ নূন্যতম নাগরিক সুযোগ সুবিধা নেই। শুধু মাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসাবে অনেক পরিবার অনেকে বসবাস করছে। তবে এখানকার লোকজনের জন্য কর্মসংস্থানমুখী কর্মসূচি হাতে নেয়া হলে লোকজনের দুঃখ দুর্দশা কমে যাবে।
আশ্রয়ন প্রকল্পগুলোতে বসবাসরত লোকজনের বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, ভিজিডি কার্ড এবং কি ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ডও পর্যাপ্ত নেই। হতদরিদ্র অধিকাংশ পরিবারগুলো অন্যবাড়িতে কাজ করে। আবার অনেকে রাজমিস্ত্রী ও মাটি কেটে জীবন যাপন করে। আশ্রয়ন প্রকল্পের একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমাদের আশ্রয়ন প্রকল্পে প্রায় ২ শতাধিক লোকজন বসবাস করে। প্রতি বছর ধলেশ্বরী নদীর ভাঙ্গনে আমরা আতঙ্কে থাকি। বর্তমানে প্রতিটি ব্যারাকের রুমগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। বৃষ্টির সময় পানি পরে। অধিকাংশ টিউবওয়েল, প্রসাবখানা ব্যবহারের একেবাড়েই অযোগ্য।
ঘিওর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ অহিদুল ইসলাম টুটুল জানান আশ্রয়ন প্রকল্পটি বর্তমানে সংস্কার করা জরুরী প্রয়োজন। কিন্তু বরাদ্দ না আসায় এখানে কোন ধরনের কাজ করা যাচ্ছেনা । তবে আমার এখানে কোন কিছু আসলে আমি তাদের সাহায়্য এবং সহযোগিতা করে থাকি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজমুল ইসলাম জানান, আমি উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। আশ্রয়ন প্রকল্পগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করবো। সেখানে বসবাসকারীদের সাথে কথা বলে তাদের দুর্দশা নিরসনে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদেরকে অবশ্যই অবহিত করবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Theme Created By ThemesDealer.Com