শরিফুল ইসলাম নড়াইল প্রতিনিধি:২৫ সেপ্টেম্বর-২০২২,রবিবার।
নড়াইলের পইলডাঙ্গা গ্রামে স্বামীকে মাদক সেবনে বাঁধা দেয়ায় স্ত্রীর ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন গৃহবধূ কাজী সুমাইয়া ইসলাম। গত ১১ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিনি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্বামী আশিকসহ শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদ গৃহবধূ সুমাইয়াকে বেদম মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় শারীরিক ক্ষত নিয়ে এখনো হাসপাতালের বিছানায় আছেন কাজী সুমাইয়া।
ভুক্তভোগী সুমাইয়ার বড় ভাই কাজী রমজান জানান, সুমাইয়া বর্তমানে কিছুটা সুস্থ হলেও ঠিকমত খেতে পারে না। ঠোঁটে এখনো সেলাই রয়েছে। স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। আরও ১৫দিন চিকিৎসাধীন থাকতে হবে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
এদিকে সুমাইয়ার স্বামী আশিক খান, বাবা মুনসুর খানসহ চারজনের নামে দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে নির্যাতিতার বাবা (সুমাইয়া) কাজী নজরুল ইসলাম বাদশাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম বাদশা সদর থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে নজরুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর শহরের শেখ রাসেল সেতুর কাছে পৌঁছালে বিবাদিসহ (সুমাইয়ার শ্বশুর) অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজন লোক মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দেয়। মামলা তুলে না নেয়া হলে খুন-জখম করবে মর্মে শাসিয়ে যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১১ মাস আগে নড়াইল সদরের পইলডাঙ্গা গ্রামের মনসুর খানের ছেলে আশিক খানের সঙ্গে লোহাগড়া উপজেলার শামুকখোলা গ্রামের নজরুল ইসলাম বাদশার মেয়ে কাজী সুমাইয়া ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুমাইয়া জানতে পারেন তার স্বামী মাদকাসক্ত। সংসারে সুখের কথা বিবেচনায় স্বামীর মাদকাসক্তের বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে তা জানাজানি হয়ে যায়। স্বামীকে মাদক থেকে দুরে রাখার জন্য অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন সুমাইয়া। এ কারণে প্রায়ই সুমাইয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হতো। এরই জের ধরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে আশিক তার স্ত্রীকে কিল-ঘুষি ছাড়াও রড দিয়ে বেদম মারধর করে পালিয়ে যায়।
আসামিরা গত ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হলে মূল অভিযুক্ত আশিককে বিজ্ঞ বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিলেও অন্যরা জামিন পান। আদালত থেকে বের হয়ে ওইদিনই (১৮ সেপ্টেম্বর) আশিকের বাবা মনসুর খান আমার বাবাকে (কাজী নজরুল ইসলাম) মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিয়েছে। বিভিন্ন সময় আশিকের আত্মীয়স্বজন আমাকেও মামলা তোলার জন্য হুমকি দিচ্ছে। সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার পার্থ সারথি রায় জানান, সুমাইয়ার মাথা, ঠোঁটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। তার সিটিস্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষা হয়েছে। এখনো চিকিৎসা চলছে।
নড়াইল সদর থানার ওসি (চলতি দায়িত্ব) মাহমুদুর রহমান বলেন, ভূক্তভোগী গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আর জিডির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।