Logo
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি পুরস্কার বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে : সেতুমন্ত্রী কোনো সাংবাদিক অহেতুক হয়রানির শিকার হবেন না : তথ্যমন্ত্রী মাধবপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় সৈয়দপুরে তোলপাড়  মানিকগঞ্জে মাদ্রসার ছাত্রকে বলাৎকার, অধ্যক্ষসহ গ্রেপ্তার তিন মানিকগঞ্জে কৃষক হত্যা মামলায় আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদন্ড নাগরপুরে মাসকলাই বীজ ও সার বিতরণ টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান ঘুম ঘুম অবস্থায় ছিলেন বাস চালক, অতপর নিয়ন্ত্রণ হা‌রিয়ে খা‌দে পড়ল বাস
নোটিশ :
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয় ।

ঘিওরে ধলেশ্বরী নদীতে নৌকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন । সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত

রিপোর্টার / ১৭৮ বার
আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৬ আগস্ট, ২০২১

রামপ্রসাদ সরকার দীপু , স্টাফ রিপোটার:০৬ আগস্ট-২০২১,শুক্রবার।
মানিকগঞ্জ ঘিওর উপজেলা পুরাতন ধলেশ্বরী, কালীগঙ্গা ও ইছামতি নদীতে বড় বড় ট্রলারের মধ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর পারের বসত বাড়ি এবং প্রায় তিনশ’ হেক্টর ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার পুরাতন ধলেশ^রী,কালিগঙ্গা ও ইছামতি নদী থেকে অবৈধ ভাবে প্রতিদিন ভোর ৩ টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রলারে দেশীয় ছোট ড্রেজার ও নদীর পার থেকে হাজার হাজার ঘন ফুট বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে । ফলে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্জিত হচ্ছে।
জানাগেছে, ঘিওরের কুস্তা, নারচী, বেগুন নারচী, ঘিওর পূর্ব পাড়া,বাইলজুরি, মাইলাগী, বৈলট, সিংজুরি,আশাপুর, উত্তর তরা,নকিববাড়ী,কেল্লাই,জাবরা এলাকাসহ বিভিন্ন গ্রামের নদীর পার ঘেষে ৩০-৪০ টি নৌকায় দৈনিক অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে কতিপয় প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলার বালু ব্যবসায়ীরা একটি সিন্ডিকেট বালু ব্যবসা পরিচালনা করছে। সংঘবদ্ধ এ চক্রটির কারনে মতাসীন দলের ভাবমূর্তি চরম ভাবে ুন্ন হচ্ছে। জীবনের ভয়ে কেউ কোন প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। তাদের বাহামভুক্ত লোকজন বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। এতে পরিবেশের তির পাশাপাশি এলাকাবাসীর ফসলি জমি হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, যে কোনো সময় ধ্বসে যেতে পারে আশেপাশের বসবাসকারী বাড়িঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ইদানিং কুস্তা এলাকায় ধলেশ^রী নদীর চরের মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। অপরিকল্পিতভাবে মাটি বিক্রির ফলে হুমকির মুখে রয়েছে ২টি সেতু, খাদ্য গুদাম,শশ্মানঘাটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। মাটি কাটায় কুস্তা এলাকার বহু বাড়িঘড়, ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। প্রভাবশালী কতিপয় লোকজন জড়িত থাকায় মাটি দস্যুদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সাহস পাচ্ছে না এলাকার ভুক্তভোগি লোকজন। বালু কাটার বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা মাসিক মিটিংয়ে কয়েক দফায় ব্যাপক আলোচনা হলোও এ পর্যন্ত মাটি বিক্রি বন্ধ হয়নি। মাঝে মধ্যে প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ড্রেজার ধ্বংস ও জড়িমানা করলেও পুনরায় চলে তাদের ড্রেজার ও মাটি বিক্রি কার্যক্রম । মাটি খেকোদের বহনকারী ভারী ড্রাক ট্রাক চলাচলে ঘিওর উপজেলার আঞ্চলিক রাস্তাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্রে জানিয়েছেন। এদিকে ট্রাক্টর, ড্রামট্রাক চালকদের বয়স খুব কম। এদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। ধারন ক্ষমতার অধিক মাটি/বালু ভর্তি করে বিভিন্ন সড়কে বেপরোয়া চলাচল করছে। অহরহ ঘটছে মারাত্মক দুর্ঘটনা। অবাদে চলাচলের কারনে বাজারের ব্যবসায়ীসহ চলাচলরত জনসাধারনের মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে।
নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকাবাসি জানান, বালু ব্যবসায়ী একটি মহল বর্ষা মৌসুমে বড় ট্রলারে দেশীয় ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার লোক জনের কাছে বিক্রয় করা হচ্ছে। ট্রলার মালিকরা মাটি বিক্রি করে ১৪০০-১৬০০ টাকা। গড়ে প্রতিদিন ৯০/১০০ ট্রলার বালু উত্তোলন করা হয়। অনেক ট্রলার মালিকরা নিজেরাই ট্রলারে মিনি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রয় করে। নদী থেকে অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে প্রতি বছর ঘর-বাড়ি সহ বহু ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। তারা আরোও জানান, প্রতি বছর ভরা বন্যা মৌসুমে এই চক্রটি ট্রলার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে। ফলে নদী ভাঙ্গন ভয়াবহ রূপ ধারন করে। বহু লোক জন ঘর-বাড়ি,ফসলি জমি হারিয়ে আত্নীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। এভাবে বালু উত্তোলন করলে কুস্তা, নারচি, শ্রীধরনগর, সহ বহু এলাকা নদী গর্ভে বিলিন হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ড্রেজার মেশিন বন্ধ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপরে নিকট জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।
ঘিওর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বিপ্লব জানান. ট্রলারে মাটি বিক্রি এবং চরের মাটি বিক্রি ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ওয়াদিয়া শাবাব জানান, আমি যোগদানের পরে অভিযান চালিয়ে ছিলাম। কিন্তু সংঘবদ্ধ চক্রটি পালিয়েছিল। তবে নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোনকারীরা সে যেই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত মোবাইল র্কোটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Theme Created By ThemesDealer.Com