Logo
শিরোনাম :
পাংশায় প্রতিপক্ষের দুইদফায় হামলায় পিতা-পুত্র হাসপাতালে বাংলাদেশের ‘অভাবনীয়’ সাফল্যের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব মানিকগঞ্জে ব্যস্ত সময় পার করছে ৫ শতাধিক ঢাক- ঢোল তৈরির কারিগররা ঘিওরের বড়টিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির ৪টি পদ শূণ্য ।শত শত রোগীরা চিকিৎসা বঞ্চিত দৌলতপুরে ৮ ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। প্রার্থীদের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ । শনিবার থেকে বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা শুরু জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবসনে আন্তর্জাতিক শক্তির নিষ্ক্রিয়তায় মর্মাহত বাংলাদেশ পাংশায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে মহিলাদের ৭দিন ব্যাপী হস্তশিল্প প্রশিক্ষণের উদ্বোধন পাংশায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ২১০টি অনিয়মিত পত্রিকা বাতিলে তালিকা করা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী
নোটিশ :
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয় ।

ঘিওরে বাণিজ্যিক ভিত্তিক ড্রাগন চাষে পলাশের ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে

রিপোর্টার / ১১৭ বার
আপডেটের সময় : বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ,স্টাফ রিপোটার:-১১ আগস্ট-২০২১,বুধবার।
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী স্কুলের পাশ দিয়ে সরু পথ ধরে একটু গেলেই দূর্গাবড়ি এলাকা। এখানেই পলাশ সরকারের লাল টুকটুকে ড্রাগন ফুলের বাগান। দুর থেকে দেখলে চোখে পড়বে লোভনীয় অজস্র লাল লাল ফলের সমারোহ। প্রতিটি গাছে রয়েছে পাকা ড্রাগন। ৬০ শতাংশ জমিতে নির্মিত এই বাগানের বয়স মাত্র ২ বছর। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। এরই মধ্যে এই ফল বিক্রি করে পলাশের আয় হয়েছে ৪ লাখ টাকার ওপরে। ড্রাগন চাষে পলাশের ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে। একজন সফল ড্রাগন চাষী হিসেবে পলাশ স্বপ্ন পূরনের পাশাপাশি হয়ে উঠেছেন এলাকার আরো অনেক যুব তরুনের অনুকরণীয়। বাড়ির সাথেই বাগানে বাণিজ্যিকভাবে ২০১৯ সালের ১৩ ই জুন ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন তিনি। ইউটিউবে দেখে ড্রাগন ফলের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে পলাশ। তারপর তিনি খোঁজ নিয়ে চলে যান চুয়াডাঙ্গার জীবন নগরে। সেখানে স্থানীয় “রুপ মিয়ার” বাগানে চাষ পদ্ধতি দেখেন এবং সেখান থেকে চারা কিনে আনেন। এরপর জমি তৈরী করে নিজ বাগানে শুরু করেন ড্রাগন চাষ। দশ মাসেই ফুল আসে বাগান জুড়ে। মাঝ রাতের জোছনার আলোয় বাগান জুড়ে সাদা সাদা ফুল। সুঘ্রাণে মাখামাখি চারিপাশের বাতাস।
গতকাল সকালে সরজমিন ড্রাগন ফল বাগানে কথা হয় পলাশ সরকারের সাথে। তিনি জানালেন তার ড্রাগন বাগান করার শুরুর কথা, বর্তমান অবস্থা এবং তার স্বপ্নের কথা। তিনি জানালেন, আমি সফল হয়েছি। এজন্য বিষয়টি অত্যন্ত আনন্দের। অত্র এলাকায় আমিই প্রথম বাণিজ্যিকভিত্তিক এই ড্রাগন বাগান করেছি। বাজারে ভালো দাম ও চাহিদা থাকায় দিনদিন বাড়ছে ড্রাগন ফলের কদর। পলাশ সরকার আরো জনান, দেশের চাষিদের কাছে ড্রাগন ফলের ব্যপক পরিচিতি নয়। তবে ড্রাগন চাষ করে সফলতা পাওয়ায় অনেকেই আসছে বিভিন্ন পরামর্শ নিতে। এপ্রিলে ফুল আসে, এরপর জুনের প্রথম সপ্তাহে ফল। ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ৭ মাস ফল পাওয়া যায়। বাগানের সার্বণিক দেখাশোনা করেন পলাশের মা আমোদিনী সরকার। তিনি জানালেন, দুই বছর আগে ড্রাগন বাগানের সূচনা করেন তার ছেলে। বাগানে যখন ফুল হয়, সাদা ফুলে ভরে উঠে বাগান, সুবাসে মুখরিত থাকে। এরপর পাকা লাল ফলে ভরা বাগান দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। তখন অনেক মানুষজন বেড়াতে আসেন। মানুষজনের আনন্দ দেখলে আমাদেরও খুব আনন্দ হয়। আমি নিজের সন্তানের মতোই যত্ন নেই বাগানের। অনেকেই আমার ছেলে পলাশের কাছে ড্রাগন বাগান করার নিয়ম কানুন জানতে আসে। এবিষয়ে পলাশ সবাইকে তথ্য ও বাস্তবতা দেখিয়ে সহায়তা করে। বাগানে ঘুরতে আসা লোকমান মোল্লা, মাহফুজ আহমেদ, শিক্ষক রুহুল আমিন, মোঃ রমজান আলী বলেন, আমরা শুধু ড্রাগন বাগানের নাম শুনেছি। ফলও খেয়েছি অনেক কিন্তু স্বচক্ষে বাগান দেখা এবারই প্রথম। তারা সবাই এই ড্রাগন বাগান দেখে উচ্ছসিত। এসময় ড্রাগন বাগান ঘুরে দেখে ৪শ টাকা কেজি দরে ৫ কেজি ফল কিনে নিলেন মানিকগঞ্জ শহরের মোঃ ফারুক আহমেদ নামের একজন সৌখিন ব্যক্তি। পলাশের বাগানে সার্বণিক কাজ করেন ৫ জন শ্রমীক। তাদের মধ্যে সুনীল সরকার ও মোঃ শহীদ বলেন, এ গাছকে ওপরের দিকে ধরে রাখার জন্য সিমেন্টের কিংবা বাঁশের খুঁটির সঙ্গে ওপরের দিকে তুলে দেওয়া হয়। ড্রাগনের চারা বা কাটিং রোপণের ১০ থেকে ১৫ মাসের মধ্যেই ফল সংগ্রহ করা যায়। নিয়মিত পানি ও যত্ন নিতে হয়। সব সময় আগাছামুক্ত রাখতে হয় ড্রাগন বাগান। পোকা মাকড়ের হাত থেকে ফল রা করতে নেট কিংবা পলিতে মোড়ানো হয়ে থাকে পাকা ফল। বানিয়াজুরী গ্রামের স্বর্গীয় চাঁন মোহন সরকারে কনিষ্ঠ পুত্র বাগান মালিক পলাশ সরকার বলেন, যেসব জমি পুরোপুরি সূর্যের আলো পায়, বর্ষায় পানি ওঠে না এমন জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করা সহজ। একটি গাছ থেকে বছরে ৫০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত ফল হতে পারে। প্রতি কেজি ড্রাগন ফল বিক্রি হয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। বাগান থেকেই বিক্রি বেশি হয়। বেশিরভাগ ক্রেতা এই ফল ঢাকায় নিয়ে যান। ড্রাগন চাষেই নিজে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি উপজেলায় ড্রাগন চাষের বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটানোও সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হাসিব আহসান বলেন, অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এ ফল চোখকে সুস্থ রাখে, শরীরের চর্বি কমায়, রক্তের কোলেস্টেরল কমায়, উচ্চ রক্তচাপ কমানোসহ রোগ প্রতিরোধ মতা বাড়ায়। এফল চাষে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ বিপুল হোসেন বলেন, ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ বিপুল হোসেন জানান, ঘিওরে প্রথম বানিজ্যিক ভিত্তিক ড্রাগন বাগান করেছেন পলাশ এবং তিনি সফল চাষী। পলাশের বাগানের একটি ড্রাগন ফলের ওজন ৩০০ গ্রাম থেকে প্রায় ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়েছে। ড্রাগন গাছে শুধু রাতে স্বপরাগায়িত হয়ে ফুল ফোটে। ফুল লম্বাটে সাদা ও হলুদ রঙের হয়। তবে মাছি, মৌমাছি ও পোকা-মাকড় পরাগায়ন ত্বরান্বিত করে। কৃত্রিম পরাগায়নও করা যায়। মানিকগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আমরা নিয়মিত কৃষি পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, একটি গাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। পলাশের সফলতা দেখে ড্রাগন ফলের চাষ করতে আগ্রহ তৈরী হচ্ছে অন্যান্য যুব-তরুন এবং স্থানীয় কৃষকের মাঝে। বিদেশি এ ফল দেশের মাটিতে চাষ বৃদ্ধির ল্েয কৃষি বিভাগ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Theme Created By ThemesDealer.Com