Logo
শিরোনাম :
পাংশায় প্রতিপক্ষের দুইদফায় হামলায় পিতা-পুত্র হাসপাতালে বাংলাদেশের ‘অভাবনীয়’ সাফল্যের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব মানিকগঞ্জে ব্যস্ত সময় পার করছে ৫ শতাধিক ঢাক- ঢোল তৈরির কারিগররা ঘিওরের বড়টিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির ৪টি পদ শূণ্য ।শত শত রোগীরা চিকিৎসা বঞ্চিত দৌলতপুরে ৮ ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। প্রার্থীদের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ । শনিবার থেকে বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা শুরু জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবসনে আন্তর্জাতিক শক্তির নিষ্ক্রিয়তায় মর্মাহত বাংলাদেশ পাংশায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে মহিলাদের ৭দিন ব্যাপী হস্তশিল্প প্রশিক্ষণের উদ্বোধন পাংশায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ২১০টি অনিয়মিত পত্রিকা বাতিলে তালিকা করা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী
নোটিশ :
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয় ।

মানিকগঞ্জে আখ চাষে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষক

রিপোর্টার / ১১০ বার
আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১

রামপ্রসাদ সরকার দীপু , স্টাফ রিপোটার:২৬ আগস্ট-২০২১,বৃহস্পতিবার।
মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলারর বিভিন্ন এলাকাতে আখ চাষ করে অনেক কৃষক স্বালম্বী হচ্ছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি পাওয়ায় আখ চাষে ঝুঁকেছে মানিকগঞ্জের কৃষকরা। চাহিদা বেশি এবং দাম ভাল হওয়ায় আখ বিক্রি করে আখ চাষীরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। জানা গেছে, সামান্য পরিচর্যায় এ অর্থকরী ফসল আখ চাষে লাভ বেশি হবার কারনে কৃষকেরা ঝুকে পরছে আখ চাষে। চলতি মৌসুমে পরিপক্ক হয়ে গেছে প্রায় েেতর আখগুলো। শুরু হয়েছে আখ কাটা। আগামী কার্তিক মাস পর্যন্ত চলবে এ আখ কাটার কাজ। আখের চারার ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে চাষীরা সরিষা, মরিচসহ অন্যান্যও ফসলও চাষ করে থাকে। দুই-তিন মাসে এসব ফসল উঠলেও আখ পরিপক্ক হতে সময় লাগে আরো কয়েক মাস।
মানিকগঞ্জের তরা হাট আখ বিক্রির হাট হিসেবে ভিন্ন পরিচিতি পেয়েছে। এই হাটে প্রতি সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার আখ। আখের বাজার ক্রেতা বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। ভোর থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে আখ চাষীরা তাদের উৎপন্ন আখ এখানে নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য। মানিকগঞ্জ জেলার চাষকৃত আখের ৬০ শতাংশ আখই যায় ঢাকার বাজারে। প্রতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই আখ সরবরাহ করা হয়। আর আখের সবচেয়ে বড় বাজার বসে তরা হাটে। এখানে সপ্তাহে দুই দিন আখ কেনাবেচা হয়। এ হাট থেকেই বড় বড় ট্রাক বোঝাই করে আখ চলে যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার খাগড়াকুড়ি, ঘিওর, তরা, কুটাই, উত্তর তরা, মাইজখাড়া, লঙ্গনপুর, দোলাপাড়া, পাথরাইল, নকিব বাড়ি, গিলন্ড, বাগজান, মূলজান, করচাবাধা, ঘোস্তা, বালিয়াবাধা, হেলাচিয়া, নারিকটি, চানপুর, গোপালপুর, বাংলাদেশ হাট, তিলি, ডউটিয়া, আলীনগর প্রভৃতি এলাকায় আখ চাষ হয়ে থাকে। আখের ব্যাপারী সামাদ কাজী জানান, তরায় সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে। এই দুই দিনেই কমপে ১০ ট্রাক আখ চালান হয় ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। এই হাটে আখ বিক্রি হয় শ হিসাবে। আখের প্রকার ও ভালোমন্দ অনুযায়ী প্রতিটির দাম হয় ১০ থেকে ৩০ টাকা। এই হিসাবে প্রতি ১০০ আখ বিক্রি হয় ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। তিনি জানান, মানিকগঞ্জে চানপুরা, নলঠেঙ্গা, সাতাইশ এবং বোম্বাই জাতের আখ বেশি চাষ করা হয়।

 

 

আখ কিনতে আসা ঢাকার কারওয়ান বাজারের পাইকার মজনু বিশ্বাস বলেন, অপোকৃত ভালো মানের, পরিবহনের সহজলভ্যতা এবং কম দাম হওয়ায় তারা এই হাট থেকেই আখ কেনেন। পরিবহণ ভাড়া যোগ করে ঢাকায় তারা প্রতিটি আখ আকার ভেদে বিক্রি করেন ৩০ থেকে ৫০ টাকা। গিলন্ড এলাকার কৃষক মোঃ সমেজ উদ্দিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, তিন বিঘা জমিতে চাষ করে তিনি পেয়েছেন প্রায় দেড় লাখ টাকার আখ। খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকার ওপরে। তিনি জানান, আখের ফলন তুলতে সময় লেগে যায় প্রায় এক বছর। তবে আখ খেতে থাকতেই সাথি ফসল হিসেবে বেশ কিছু সবজির চাষ করা যায়। আখের জন্য যে সার দেওয়া হয় সেই সারেই সবজি চাষ হয় যায়।
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় সবচেয়ে বেশি আখ চাষ হয়ে থাকে সিংগাইর উপজেলায়। এবছর জেলায় আখ চাষ হয়েছে প্রায় ১২৮০ হেক্টর জমিতে। সুইং, বোম্বে, গেন্ডারী, কুশুল জাতের এসব আখের চাহিদা রয়েছে সারা দেশেই। জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও চলে যায় এ অঞ্চলের আখ। পোকার আক্রমণের হাত থেকে রা পেতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা।
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-সহকারি পরিচালক (খামারবাড়ি) মোঃ শাহজাহান আলী বিশ^াস জানান, আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকুলে থাকায় মানিকগঞ্জের সদর উপজেলাসহ ঘিওর, সিংগাইর, সাটুরিয়া, হরিরামপুর উপজেলায় উৎপাদিত বেশির ভাগ আখে গুড় তৈরি হয়। মানিকগঞ্জ সদরে যে আখ হয় তা দিয়ে গুড় বানানো হয় না। তিনি আরো জানান, এই আখের চাষ অত্যন্ত লাভজনক। সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে প্রতি বিঘায় ৩০ হাজার টাকা লাভ তোলা সম্ভব। তবে এর পেছনে পরিশ্রম করতে হয়।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Theme Created By ThemesDealer.Com