Logo
শিরোনাম :
নাগরপুরে নির্বাচনী সংহিতায় নিহত ১ গুলিবিদ্ধসহ আহত ৪ জন সৈয়দপুরে বাঁশঝাড় থেকে ২ সন্তানের জননীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী-শ্বাশুড়ী আটক ঘিওরে ধলেশ্বরী ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্টের’ উদ্ধোধন আগামীতে বিএনপি’র মত নির্বাচনে না যাওয়ার চিন্তা ভাবনা করছে জাতীয় পার্টি- সৈয়দপুরে মজিবুল হক চুন্নু টাঙ্গাইলে পাঁচ হোটেল মালিককে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত মানিকগঞ্জে নানা আয়োজনে নবীন আইনজীবীদের বরন  টাঙ্গাইলে পোড়াবাড়ী ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানের মনোনয়নপত্র জমা ঘিওরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত  দৌলতপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস ও  মহান বিজয় উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি মুলক সভা অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবীতে সৈয়দপুরে জেলা বিএনপি’র বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি পেশ
নোটিশ :
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয় ।

মানিকগঞ্জে শারদীয় দুর্গোৎসবে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ রং ও তুলির কাজে ব্যস্ত শিল্পীরা

রিপোর্টার / ১১৬ বার
আপডেটের সময় : বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ,স্টাফ রিপোটার:-২৯ সেপ্টেম্বর-২০২১,বুধবার।
আগামী ১০ অক্টেবর পঞ্চমী তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। বর্ণাঢ্য ধর্মীয়, সামাজিক ও সাস্কৃতিক উৎসবে মেতে উঠবে সারা দেশের মতো মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলায়। পঞ্জিকা মতে, এবার দুর্গা দেবীর ঘোটকে আগমন এবং দোলায় গমন। শরৎকালে দেবতাদের হয়ে অসুরকে ধ্বংস করার লক্ষে পৃথিবীতে দুর্গার আগমন ঘটে। শরৎকালে দেবীর এ পুজাকে বলা হয় অকাল বোধন। বিভিন্ন মন্দির গুলোতে শিল্পীরা ফরমায়েশ অনুযায়ী প্রতিমা তৈরির কাজে মহাব্যস্ত। প্রতিমা কাঠামোতে খড় এবং মাটি লাগানোর কাজ শেষ। রং এবং তুলির কাজ প্রায় শেষের দিকে। প্রতিমার চোখ, হাতের আঙ্গুল, মুখমন্ডল, তৈরিসহ প্রতিটি কাজের জন্য ভিন্ন কারিগর রাতদিন নিরলশ পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। রং এবং তুলির ছোয়ায় প্রতিমার রুপ ও সৌন্দয্য আনার কাজ নিয়ে শিল্পীরা মহা ব্যস্ত।
মনিকগঞ্জের জেলা সদরে ৮৩টি, পৌরসভায় ২৯টি, ঘিওরে ৭৪টি, শিবালয়ে ৮৯টি, দৌলতপুরে ৪৫টি, সিংগাইর পৌরসভায় ১০টি, সিংগাইর সদরে ৫৩টি, হরিরামপুরে ৬৯টি, সাটুরিয়া ৬০টি সহ মোট ৫০২টি মন্দিরে দুর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে গত বছর ৫০১টি মন্দিরে পুজা অনুষ্ঠিত হয়। ষষ্ঠীতে দেবীর আমন্ত্রন ও অধিবাস,সপ্তমীতে আগমন, অষ্টমীতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সব নারীর মধ্যেই দেবী দুর্গার শক্তি আছে। তাই নারীদের মায়ের দৃষ্টিকোন থেকে একজন কুমারীকে দেবীর আসনে বসিয়ে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধি স্থলে সন্ধি পূজা করা হয়। শেষে দশমী পূজা।
ঘিওর লোকনাথ মন্দিরের অমর পাল ও শতদল মন্দিরের অবিণাশ পাল তার সাগরেদদের নিয়ে প্রতিমা গড়ার কাজে ব্যস্ত। মাটির ভাস্কর্য্য তৈরিতে তারা পারদর্শী। মানিকগঞ্জের বানিয়াজুরী অমুল্য মালাকারের বাড়ি এবং ঘিওর কচি কাঁচা মিলন সংঘ সবচেয়ে ব্যয় বহুল ভাবে প্রতিমা তৈরি করা হয়। হাজার হাজার লোকজন দুর্গা দেবী দেখতে এখানে সমবেত হয়। নরম কাঁদা মাটি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিল তিল করে তুলেছেন দশভুজ্য দুর্গাদেবীর প্রতিমা। একই সঙ্গে গনেশ, কার্তিকসহ অন্যান্য প্রতিমার। অবিণাশ পাল দুর্গাদেবীর মুখাকৃতি রাগান্বিত করলেও, কৃতিম হাসির মাঝে তা ফুঁটিয়ে তুলেছেন। ১০ হাতে দুর্গা ত্রিসূল দিয়ে বধ করছেন যমদুত অশুরকে। আর ১০ হাতে দুর্গার ১০ চক্র লীলা ভঙ্গীতে নতুনন্ত আনার চেষ্টা করছেন শিল্পীরা। লীলা এবং গুনের বিষয়টি অত্যন্ত নিখঁতভাবে ধরা হয়েছে। শরৎকালে দুর্গোৎসবে আনন্দ এখন থেকেই ভক্তরা প্রহর গুনছে মাহেন্দ্রক্ষনের। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের মনে সাজ সাজ রব। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ছেলে মেয়েরা মাতৃত্ব বন্দনায় অপার মহিমায় বিভিন্ন রং এ সাঁজে। বিধাতার অপার মহিমায় এ ঋতুতে বিলে ঝিলে ফোঁটে পদ্ম ও শাপলা। বিস্তৃর্ণ আকাশে চাঁদের হাসির সাথে সমস্ত আনন্দ উল্লাস একাকার হয়ে যায়। শরৎকালে রঙ্গিন পৃথিবীতে দুর্গা দেবীর নতুন আবির্ভাব। এ যেন শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা। তবে আর কয়েক দিনের মধ্যেই দুর্গাদেবী উঠবে বেদীতে। বাজবে ঢাক, ঢোল, শঙ্খ, সানাই। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবীদুর্গা মহাশক্তির প্রতীক। সেই মহাশক্তিকেই তারা প্রতিমার মধ্য দিয়ে চিম্ময়ী ব্রম্বাশক্তিকে দর্শন করে। মানিকগঞ্জে দুর্গোৎসবে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সব মানুষ অংশ গ্রহন করে। রাজনৈতিক, সামাজিক সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আসেন প্রতিটি মন্দিরে শুভেচ্ছা জানাতে। সমস্ত বিভেদ ভুলে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে মিলন মেলায় পরিনত হয়।

জেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক অর্নিবাণ পাল জানান, ব্যাপক আনন্দ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জে সকল সম্প্রদায়ের লোকজন এ উৎসবে আনন্দ উল্লাস করে। পূজা উৎযাপন কমিটির উদ্যোগে একটি টিম সার্বক্ষনিক মন্দিরগুলো পরিদর্শন করবে। ইতোমধ্যে আমরা ৭টি উপজেলার মন্দিরের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেছি। তবে এবার ৫০১টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ জানান ,শারদীয় দুর্গোৎসবে আইন শৃঙ্খলা সুন্দর ও স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রতিটি মন্দিরে পুলিশ, আনসার মোতায়ন করা হবে। মোবাইল টিম সার্বক্ষনিক মন্দিরগুলো পরিদর্শন করবে। শহরের এবং উপজেলার সব মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ জানান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ একটি দেশ । আবহমানকাল থেকে আমাদের এ দেশে হিন্দু , মুসলমান বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন মিলে মিশে বাস করে। কাজেই দুর্গা পূজাটি সার্বজনীন। আসুন আমরা সকলেই সংঘাত সংঘর্ষ সহ সমস্ত খারাপ কিছু পরিহার করে মানুষের জন্য একটি শান্তিপূর্ন পৃথিবী গড়ে তুলি। শরৎকালে সু-বাতাসে শান্তিপূর্ন হোক এ বসুন্ধরা।

 

 

 

 

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Theme Created By ThemesDealer.Com