Logo
শিরোনাম :
রূপগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উদ্যোগে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী পালিত। তিস্তার পানিতে তলিয়ে গেছে ডিমলা ও জলঢাকার ২২ টি গ্রাম, পানি বন্দি ৪০ হাজার মানুষ দৌলতপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর লাশ উদ্ধার দৌলতপুরে মৌমাছির কামড়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু  গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন  ঘিওরে মা ইলিশ বহনকারী ৬ জনকে জরিমানা রূপগঞ্জে গাজী গ্রীন সিটিতে পাটমন্ত্রীরর বৃক্ষরোপণ রূপগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বী‌দের লক্ষীপূজা উপল‌ক্ষ্যে আওয়ামীলীগ নেতা আনছার আলীর উপহার সামগ্রী বিতরন অবহেলিত মানুষের পাশে থাকতে চান ৭,৮ ও ৯ নং মহিলা মেম্বার প্রার্থী সেলিনা আক্তার রিতা। ​আ’লীগের সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত
নোটিশ :
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয় ।

মানিকগঞ্জের খামারিরা পশু বিক্রি নিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন

রামপ্রসাদ সরকার দীপু / ১৭৭ বার
আপডেটের সময় : বুধবার, ১৪ জুলাই, ২০২১

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ,স্টাফ রিপোটার :১৩ জুলাই-২০২১,বুধবার।
ঈদকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলার খামারিরা পশু বিক্রি নিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেক খামারীর রাতের ঘুম আসেনা। শ্রম মেধা এবং পুঁজি বিনিয়োগ করে পশুর খামার করে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন খামারীরা । করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি ও চলমান লকডাউনের কারনে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়েও খামারিরা হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায় জেলায় এবার কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলাতে মৌসুমী খামার রয়েছে ১০হাজার ৯২৬টি। আর বিক্রি যোগ্য পশু হচ্ছে ৫৫ হাজার ৮৮৮টি। (গরু,মহিষ, ছাগল ও ভেড়া)। ২৭ হাজার ৫৫৪টি ষাঁড়,৯২৮টি বলদ, ১৩ হাজার মহিষ, ১৬ হাজার ২৮৬াট ছাগল, ২ হাজার ৮৩৯টি বেড়াসহ৫৫ হাজার ৮৮৮টি গবাদিপশু মোটাজাত কর হয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বাড়াইবিকরা গ্রামের মানিগঞ্জ সেবা ডেইরি ফার্মের মালিক রুবেল জানান, তার খামারে ৭০টি গরু আছে। ৩২টি ষাঁড় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। ৫৫/৬০ রাক টাকা বিক্রি করতে না পারলে তার পরিশ্রমই বৃথা যাবে। একই উপজেলার গড়পাড়া গ্রিন ফার্মের পরিচালক খামারি আবুল হোসেন জানান, তার খামারে দেশি, শাহিয়াল, ক্রস, অট্রেলিয়ান, দেশিবার্মা সিন্ধি জাতের ৮৯টি গরু আছে। যার মধ্যে ৫০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা সদরের নতুনবসতি এলাকার আমেরিকান প্রবাসী মোঃ জিন্নাহ (৬৩) প্রবাসী জীবনের সমস্ত আয় গরুর খামারে বিনিয়োগ করে হতাশায় দিন পার করছেন। গত তিন বৎসর যাবৎ তিনি খামার শুরু করেন। এবার কোরবানীকে কেন্দ্র করে ২২টি বিশাল আকৃতির ষাড় ও ৮টি গাভী লালন পালন করেন। হাট বন্ধ থাকায় বিক্রি নিয়ে হতাশা ব্যাক্ত করেন তিনি। করোনা সব আশা আকাঙ্খা নষ্ঠ করে দিচ্ছে। তিনি বলেন সন্তানের মতো মায়ামমতা দিয়ে খামার করে যাচ্ছি। আমি পরিবার নিয়ে আমেরিকায় থাকি। খামারের মায়ায় প্রায়ই দেশে চলে আসি। আমি আমেরিকা থেকে মোবাইলের মাধ্যমে খামারের খোজ খবর রাখি। এখানে আমার প্রায় ৭০লক্ষ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার সাহেব ওজন ৪০ মণ। কোরবানি ঈদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বিক্রির জন্য। সাহেবের মালিক ষাড়টির নাম দিয়েছেন সাটুরিয়ার সাহেব। ফ্রিজিয়ান জাতের এ ষাঁড়টি কে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ নয়াপাড়া গ্রামের নোমাজ আলী ৪ বছর ধরে লালন- পালন করে আসছেন। আয়েশী খাবারের পাশাপাশি দিনে কয়েকবার গোসল করানো হয় নামী- দামী ব্যান্ডের সেম্পু দিয়ে। তার জন্য ৩ টি ফ্যান সবসময় চালু রাখছি। তাই তার নাম দিয়েছি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার সাহেব। সে আরো বলেন, সাহেব নামে এ আলোচিত ষাঁড়টি লম্বায় ৯ ফুট ৯ ইঞ্চি, পেটের ভেড় ৯ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ৬ ফুট। গরুটির মূল্য চেয়েছেন ২৫ লাখ টাকা। সিংগাইর উপজেলার পৌর এলাকার আজিমপুর গ্রামে একটি খামারে সাড়ে তিন বছরে ২০ মন ওজনের বিশাল ষাঁড় বেড়ে উঠেছে। গরুটির নাম রাখা হয়েছে সিনবাদ। খামারীর মালিক পৌর মেয়র বিদেশী জাতের এ ষাঁড়টির মূল্য ২০ লাখ টাকা। হরিরামপুরের পিয়াজচর এলাকারগ্রামের আল রাইসা ফার্মের মালিক রফিকুর ইসলাম আদর গরুটির নাম রেখেছেন সম্রাট। সমাট্রের ওজন ৩৫ মন। দাম হেকেছেন ৩০ লাখ টাকা। ঘিওর উপজেলার গোলাপনগর কুঠিবাড়ি এলাকার খামারি মোঃ ইউনুস আলী খামারে ২৫টি বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। প্রতিটি গরু প্রায় ২০ থেকে ২৫ মনের মধ্যে। প্রতি বছর তিনি কোরবানীর ঈদে বিক্রি করেন । কিন্তু এবার ঈদে গরু নিয়ে তিনি বিপাকে পরেছেন। রাধাকান্তপুর গ্রামে মোঃ রফিক তার বাড়িতে বিশাল আকৃতির একটি লাল গরু বিক্রি করতে চাচ্ছেন। ক্রেতা না থাকায় তিনি গরু নিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। গরুটির নাম দিয়েছেন লাট্টু। ঘিওর উপজেলার বীর সিংজুরি গ্রামের কালো মানিক মানের গরুটি যত্ন করে লালন পালন করেছেন মোঃ আশরাফুল আলম। বিশাল আকৃতির গরুটি দেখার জন্য প্রতিদিন এলাকার লোকজন ঘিড় করে। তিনি কালো মানিকের দাম চেয়েছেন ১২ লাখ টাকা।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহবুবুল ইসলাম টুকু মিয়া বলেন মানিকগঞ্জের গরু জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার গাবতলি সহ বিভিন্ন হাটে বিক্রি হয়। হাট চালু হলে এখানকার গরু ঢাকা নেওয়ার ব্যবস্তা করা হবে। করোনার কারনে হাটচালু না হলে অনলাইনের মাধ্যমে গরু ক্রয় বিক্রয় হবে। এ লক্ষে প্রতিটি উপজেলায় অনলাইন প্লাটফর্ম কোরবানীর পশুর হাট নামে একটি পেজ খোলা হয়েছে।

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Theme Created By ThemesDealer.Com