Logo
শিরোনাম :
পাংশায় প্রতিপক্ষের দুইদফায় হামলায় পিতা-পুত্র হাসপাতালে বাংলাদেশের ‘অভাবনীয়’ সাফল্যের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব মানিকগঞ্জে ব্যস্ত সময় পার করছে ৫ শতাধিক ঢাক- ঢোল তৈরির কারিগররা ঘিওরের বড়টিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির ৪টি পদ শূণ্য ।শত শত রোগীরা চিকিৎসা বঞ্চিত দৌলতপুরে ৮ ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। প্রার্থীদের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ । শনিবার থেকে বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা শুরু জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবসনে আন্তর্জাতিক শক্তির নিষ্ক্রিয়তায় মর্মাহত বাংলাদেশ পাংশায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে মহিলাদের ৭দিন ব্যাপী হস্তশিল্প প্রশিক্ষণের উদ্বোধন পাংশায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ২১০টি অনিয়মিত পত্রিকা বাতিলে তালিকা করা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী
নোটিশ :
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয় ।

ঘিওরে ৪৬ বছর ধরে পুঁথি পাঠ করেও ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি আওয়ালের

রিপোর্টার / ১৫৩ বার
আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ,স্টাফ রিপোর্টার ঃ২৩ জুলাই-২০২১,শুক্রবার।
৪৬ বছর ধরে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুঁথি পাঠ করে এলাকার মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন আব্দুল আওয়াল (৬৪)। কিন্তু করোনা ভাইরাস সহ নানা কারনে ঐতিহ্যবাহী পুঁথি পাঠের আসর জমে উঠেনা। বর্তমানে বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে পরা আওয়ালের ১৩ সদস্য পরিবার নিয়ে বহু কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। আগের মতো শক্তি সামর্থ নেই। এর পরে শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বেঁধেছে। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পয়লা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। পিতা মৃত আব্দুর রহিম মিয়া। পারিবারিক জীবনে আওয়ালের ২ স্ত্রী, ৫ ছেলে ও ৬ কন্যা সন্তানের রয়েছে। বাল্য শিক্ষার গন্ডি তিনি ছাড়াতে পারেনি। তবে বাল্য শিক্ষা দিয়েই তিনি অনেক কঠিন ভাষার বই পড়তে পারেন। ২০ বছর বয়সে প্রতিবেশি চাচা আব্দুল গনির কাছে পুঁথি পাঠের হাতে ঘড়ি। চাচার পুঁথিপাঠ শুনে তিনি আসক্ত হয়ে পরেন। বিভিন্ন সময়ে মা-বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চাচার সঙ্গে (ওস্তাদ) ঘুরে বেড়াতেন আওয়াল। শখের বশে পুঁথি পাঠ করে বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ান তিনি। মানিকগঞ্জের ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়, হরিরামপুর, সিংগাইর, দৌলতপুর প্রচুর পুঁথি পাঠের আসর জমে উঠতো। জাতীয় অনুষ্ঠান জন্মদিন, বিয়েবাড়িতে পুঁথিপাঠের ব্যবস্থা হতো। চাচা মারা যাবার পরে তিনি দল গঠন করেন। ধর্মীয় শিক্ষা, ইতিহাস, রাজা বাদশাদের কিচ্ছা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলোক জ্ঞান দান করে যাচ্ছেন আওয়াল। বর্তমানে সংসারের চাহিদার কারনে পুঁথি পাঠের প্রতি আগ্রহ নেই। ৪৬ বছর যাবৎ ঐতিহ্যবাহী পুঁথি পাঠের উপরে বহু অনুষ্ঠান করলেও তার ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি। পাননি নূন্যতম সুযোগ সুবিধা। বর্তমানে অভাব অনটনের মধ্যে প্রতিটি দিন কাটে। তার পরেও নেশার কারনে নিজের বাড়িতে মাঝে মধ্যে তিনি পুঁথি পাঠের আয়োজন করেন।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের জানান, মানিকগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ৮০/৯০ দশকে গ্রামাঞ্চলে পাল্লা দিয়ে পুঁথি পাঠের আসর জমে উঠতো। জেলার হরিরামপুর, দৌলতপুর অঞ্চলে পুঁথিপাঠের প্রচুর চাহিদা ছিল। বাংলার সংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহক ছিল পুঁথি পাঠ। সংস্কৃতির শহরে মানিকগঞ্জে বিভিন্ন এলাকার গ্রামাঞ্চলে বাড়িগুলোতে হ্যারিকেন ও কুপি বাতি জ¦ালিয়ে পুঁথি পাঠের আসর বসতো। প্রচুর লোকজন উপভোগ করতো। বিভিন্ন এলাকাতে আমরা ৫/৬ মাস একটানা পুঁথি পাঠ করতাম । পুঁথি পাঠ করতে করতে রাত শেষ হয়ে যেত। গ্রামে কোন নবজাতকের জন্ম হলে ওই শিশুর ৬ দিন বয়সে এইটি উৎসব হতো সেখানে পুঁথি পাঠের আসর বসানো হতো। গাজি-কালু চম্পাবতী আসর, ঘটকের জীবনচক্র, কমলা সুন্দরী, ছয়পুল, সোনাবানু, কৃষ্ণনিলা, কারবাল, মনসা মঙ্গল, লাইলী মজনু, আওলিয়া নিজামউদ্দিনের ৬ খানা পুঁথি পাঠ করেন। এ ছড়া তিনি স্বাধীনতার যুদ্ধ নিয়ে পুঁথি পাঠ করেছেন। অবসর সময়ে তার গ্রামের বাড়িতে সপ্তাহে ৪/৫দিন পুঁথি পাঠের আসর বসতো। পুঁথি শুনতে গ্রামের বহু লোকজন তার বাড়িতে জড়ো হতো। নারী শ্রোতা ছিল তুলনামূলোক বেশি। পানের বাটি নিয়ে জরো হয়ে বসে উপভোগ করে পুঁথিপাঠ। তবে পুঁথি পাঠ শুনে নিদিষ্ট পরিমানে কোনো অর্থ আয়ের চুক্তি না থাকলেও অনেক খুশি হয়ে লোকজন নতুন গেঞ্জি, লুঙ্গী, নগদ টাকা সহ ধান,চাল দিতেন। আমাদের ৪ জনের একটি দল ছিল। রাতের বেলাতে পুঁথি পাঠ করতাম দিনে ঘুমাতাম। এর মধ্যে রিয়ালছিল করতাম। সবার মধ্যে একটা প্রতিযোগিতার ভাব ছিল। সব সময় একটা অনুভ’তি কাজ করতো। তবে মূল পুঁথি পাঠক ছিলাম আমি। পুরো সময়টা অনেক আনন্দে কাটাতাম। পুরনো স্মৃতিগুলো মনে পড়লে ভাল লাগেনা। বাবার রেখে যাওয়া কিছু জমি আছে। বাকি সময়ে সেই কোনো রকমে চাষাবাদ করেন। ঐতিহ্যবাহী পুঁথি পাঠ টিকিয়ে রাখতে তবে তিনি সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন।
পয়লা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশীদ জানান, বর্তমান বাংরাদেশের ঐতিহ্রবাহী পুঁথি পাঠ আমাদের মাঝ থেকে হাড়িয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে পুঁথি পাঠের ধারনা নেই। তবে গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকারি পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রনজিত কুমার রায় জানান, পুঁথি পাঠ আমাদের কৃষ্টি সাহিত্য সভ্যতার একটি অংশ। এই পুঁথি পাঠসহ সকল লোকজ কৃষ্টি, সাহিত্য সভ্যতা ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে কালের আবর্তনে হাড়িয়ে যাবে সকল প্রাচীন সভ্যতা ।

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Theme Created By ThemesDealer.Com